Categories

ছাতু

Tags: Categories: Latest News

ছাতু আমাদের দেশের একটি প্রাচীন খাবার। তবে এখন এটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ প্রাচীনকালে মেহমানদারি করার জন্য এবং বিকেলে নাশতার জন্য মুড়ির মতো ছাতুও ছিল অত্যন্ত লোভনীয় ও জনপ্রিয় এক খাবার। এখনো চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে বাদাম-কালাইয়ের ছাতু পল্লীবধূরা চৈত্র মাসে তৈরি করে রাখে জ্যৈষ্ঠের পাকা আমের রসে খাবে বলে।Chatu

আম-ছাতু খাবারের মতো জনপ্রিয় খাবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামে বোধ হয় আর দ্বিতীয়টি নেই। সে এলাকায় চৈত্র মাসে নানা রকম চৈতালি ফসল ওঠে। এসব ফসলের মধ্যে মাষকলাই, চীনাবাদাম, যব, ভুট্টা, গম ইত্যাদি প্রধান। এসব ফসলের দানা আনুপাতিক হারে মিশিয়ে ভেজে জাঁতায় গুঁড়ো করা হয়। এর সাথে চাল ভাজাও দেয়া হয়। গুঁড়ো করা সেসব সামগ্রীকে বলা হয় ‘ছাতু’। তবে কেউ কেউ এসব দানা একসাথে না মিশিয়ে আলাদাভাবেও গুঁড়ো করে ছাতু তৈরি করেন। সে উপাদানের ওপর ভিত্তি করে সেসব ছাতুর নাম দেয়া হয়।

যেমন যব থেকে তৈরি করা ছাতুকে বলা হয় ‘যবের ছাতু’, চাল ভাজা থেকে তৈরি করা ছাতুকে বলে ‘চালের ছাতু’। মাষকলাই, চীনাবাদাম, যব, ভুট্টা, চাল ভাজা ইত্যাদি মিশিয়ে যে ছাতু করা হয় তাকে বলে ‘বাদাম-কালাই ছাতু’। গাজীপুর অঞ্চলে কাঁঠাল খুব হয়। তাই সে এলাকায় কাঁঠালের বিচি ভেজে তা গুঁড়ো করে বা ঢেঁকিতে কুটে তৈরি করা হয় ‘কাঁঠাল ছাতু’। ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিলাঞ্চলে শাপলার মতো ঢ্যাপ হয়। তার বিচি ভেজে খই করে তার যে ছাতু তৈরি করা হয় তাকে বলে ‘ঢ্যাপের ছাতু’। সেখানে ‘খইয়ের ছাতু’ও আছে।

ছাতুর সাথে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে গুড়, কলা, দুধ, আম ইত্যাদি সহযোগে খাওয়া হয়। কেউ কেউ মুড়ির সাথে গুড়-কলা দিয়ে মেখেও খায়। ছাতুর উপাদান যেহেতু চৈত্র মাসে ওঠে, তাই এ সময়ই সাধারণত ছাতু বেশি তৈরি করা হয়। ছাতুকে ঘিরে প্রাচীনকালে হিন্দু সমাজে বেশ কিছু সংস্কৃতি ছিল। চৈত্র মাসের সংক্রান্তিতে বোন ছাতু মেখে একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাইকে খাওয়াত। এ অনুষ্ঠানকে বলা হতো ‘ভাই ছাতু’। এখন এটি বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানে এ দেশের কিছু দোকানে ছাতু পাওয়া যাচ্ছে। কে জানে হয়তো এটি আবার প্রচলিত হবে আমাদের দেশে। অনেকের মতে এটি বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার।

7 Comments | Posted By