Categories

Latest News

Tags: Categories: Latest News

 

আমাদের দেশে অত জনপ্রিয় না হলেও পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ওটস একটি পরিচিত নাম। বিশেষ করে ব্রেকফাস্ট হিসেবে। তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওটসের অনেক অনেক অবদানের জন্য ধীরে ধীরে আমাদের দেশেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। রোগা হতে চান? ডায়েট করে ফল পাচ্ছেন না? এদিকে ডায়েট করেও ভালো লাগছে না? বিস্বাদ খাবার খেয়ে খেয়ে ক্লান্ত? তাহলে আজ আপনার জন্যই আমাদের এই ফিচার।

আমরা নিয়ে এলাম ওজন কমাবার দারুণ সুস্বাদু একটি উপায়। মন ভরে খাবেন আর ওজনও কমতে শুরু করবে ঝটপট। কী করবেন? আজ থেকেই সকালে নাশ্তায় ও রাতে ডিনারে নিয়মিত খাবারের বদলে। ওটস খাওয়া শুরু করুন। এতে আপনার খিদেও মিটবে আর ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ও থাকবে না। বরং ওজন কমবে বেশ দ্রুত।

সাথে শরীরটাও হয়ে উঠবে চনমনে। লুসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির পেনিংটন বায়োমেডিকাল রিসার্চ সেন্টার তাদের সম্প্রতি গবেষনা থেকে এই তথ্যই জানিয়েছে। গবেষক ফ্র্যাঙ্ক গ্রিনওয়ে জানিয়েছেন যে, ‘ ওটসের মধ্যে এমন একধরনের পদার্থ থাকে যা ক্যালোরি ধরে রাখার পাশাপাশি খিদেও মিটিয়ে দেয়।’ এই গবেষনা করে জানা গিয়েছে অন্যান্য শষ্যদানায় ফ্যাট কম থাকলেও খিদে মেটে না এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেহে যায় না। অন্যদিকে ব্রেকফাস্টে ভারি কোনও খাবার খেলে পেট ভরলেও ক্যালোরি বেড়ে যায় কিন্তু সম্পূর্ণ পুষ্টি হয়না। গবেষনাটি ১০০জন পুরুষ ও মহিলাকে নিয়ে করা হয়েছিল। যেখানে দেখা গিয়েছে ওটস খাওয়ার পর পেট ভরার পাশাপাশি সঠিক পুষ্টিও হচ্ছে। তাই, নিজেদের চেহারা, স্বাস্থ্য দুটোই ধরে রাখার জন্য অন্য সব ছেড়ে দিয়ে শুরু করুন ওটমিল খাওয়া।

উপকারিতা-
ওটস এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা শরীরের Low density lipoprotein (LDL) (ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নামে পরিচিত) এর পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি High density Lipoprotein (HDL) (উপকারী কোলেস্টেরল) এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফলে এটি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে খুবই উপযোগী। ওটসের ফাইবার হজম শক্তি বৃদ্ধি করে,মলের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং কোষ্টকাঠিন্য দূর করে। ওটস পাকস্থলী গিয়ে ফোলে। ফলে ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। হজমে সহায়তা করে। শরীরে কোলেস্টেরল কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ওটস রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। সপ্তাহে ৫-৬ বার ওটস গ্রহণ টাইপ-২ ডায়াবেটিস ৩৯% নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ওটসের হোল গ্রেইন্স পোষ্ট-মেনোপজাল মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এ ছারাও বাড়ন্ত বাচ্চাদের ওটস খাওয়ানো খুব ভালো , এর গুণ হরলিক্স-কমপ্ল্যানের থেকে বেশী ।

ঢেঁকি ছাঁটা যবের ছাতু যা ১০০% খাঁটি
অর্ডার করতে যোগাযোগ করুনঃ
01716-540020
01816-930171
অথবা ক্লিক করুনঃ https://goo.gl/lxWuMY

 

1 Comment | Posted By
sorisha
Categories: Latest News

sorisha

সরিষা বীজ থেকে তৈরি হয় সরিষার তেল। এটি গাঢ় হলুদ বর্ণের এবং বাদামের মত সামান্য কটু স্বাদ ও শক্তিশালী সুবাস যুক্ত তেল। ঐতিহ্যগতভাবে এই তেল আমাদের পূর্বপুরুষেরা ব্যবহার করে আসছেন। ওমেগা আলফা ৩ ও ওমেগা আলফা ৬ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের সমৃদ্ধ উৎস হওয়ায় সরিষার তেলকে স্বাস্থ্যকর তেল বলা হয়। এর ঔষধি গুণাগুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে এই তেল। ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্যের জন্য সরিষার তেলের অসাধারণ উপকারিতার কথা জেনে নিই চলুন।

১। ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে

সরিষার তেল ত্বকের তামাটে ভাব ও দাগ দূর করে ত্বককে প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল করতে পারে। এজন্য বেসন, দই, সরিষার তেল ও কয়েকফোঁটা লেবুর রস একত্রে মিশিয়ে মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে ৩ বার ব্যবহার করুন।

২। প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন

যেহেতু সরিষার তেল খুব ঘন হয় এবং এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই থাকে সেহেতু এই তেল ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থ থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে পারে। তাই স্কিন ক্যান্সার ও প্রতিরোধ করতে পারে। ভিটামিন ই বলিরেখা ও বয়সের ছাপ দূর করতে পারে। তাই সানস্ক্রিন লোশনের মতোই ব্যবহার করতে পারেন সরিষার তেল। তবে এই তেল যেহেতু ঘন তাই ত্বকে লাগানোর পর ভালো ভাবে ঘষে নিতে হবে যেনো অতিরিক্ত তেল লেগে না থাকে। অন্যথায় অতিরিক্ত ধুলাবালি জমা হয়ে ত্বকের ভালোর চেয়ে খারাপই হতে পারে বেশি।

৩। ঠোঁটের যত্নে

শুষ্ক ঠোঁটের যত্নে সরিষার তেল চমৎকার প্রতিকার হিসেবে কাজ করে যেখানে লিপ বাম বা চ্যাপ স্টিক অকার্যকর। ঘুমাতে যাওয়ার আগে আপনার নাভির মধ্যে এক বা দুই ফোঁটা সরিষার তেল দিন। তাহলে আর কখনোই আপনার ঠোঁট শুকাবে না বা ফাটবে না।

৪। চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

সরিষার তেল চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, অকালে চুল সাদা হওয়া রোধ করে ও চুল পড়া কমায়। সরিষার তেল ভিটামিন ও খনিজে পরিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন থাকে এতে। বিটা ক্যারোটিন ভিটামিন এ তে রূপান্তরিত হয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফ্যাটি এসিড ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। প্রতিরাতে চুলে সরিষার তেল মালিশ করে লাগালে চুল কালো হয়।

৫। ক্ষুধা বৃদ্ধি করে

ক্ষুধার উপর সুস্বাস্থ্য বহুলাংশে নির্ভর করে। পাকস্থলীর পাচক রস উদ্দীপিত করার মাধ্যমে ক্ষুধা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে সরিষার তেল। যাদের ক্ষুধার সমস্যা আছে তারা রান্নায় সরিষায় তেল ব্যবহার করতে পারেন।

৬। উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে

পরিপাক, রক্ত সংবহন ও রেচন তন্ত্রের শক্তিশালী উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে সরিষার তেল। খাওয়ার পাশাপাশি বাহ্যিকভাবে শরীরে ম্যাসাজ করলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন এবং ঘর্ম গ্রন্থি উদ্দীপিত হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে।

৭। কার্ডিওভাস্কুলার উপকারিতা

সরিষার তেল মনোস্যাচুরেটেড ও পলিস্যাচুরেটেড ফ্যাটে সমৃদ্ধ বলে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। এর ফলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি কমে।

৮। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

সরিষার তেলে গ্লুকোসিনোলেট নামক উপাদান থাকে যা অ্যান্টিকারসিনোজেনিক উপাদান হিসেবে পরিচিত। তাই ক্যান্সারজনিত টিউমারের গঠন প্রতিরোধে সাহায্য করে সরিষার তেল। এর ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট কোলোরেক্টাল ও গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

এছাড়াও অ্যাজমা ও সাইনুসাইটিসের প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে সরিষার তেল অত্যন্ত কার্যকরী, ঠান্ডা-কাশি নিরাময়েও চমৎকার কাজ করে সরিষার তেল, ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে, এতে অ্যালাইল আইসোথায়োসায়ানেট নামক অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান থাকে বলে ছত্রাকের ইনফেকশন নিরাময়ে কাজ করে। সরিষার তেলের তীব্র সুবাস পোকামাকড় তারায় বলে ম্যালেরিয়া ও পোকারকামড় জনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে সরিষার তেল বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করলে। সরিষার তেল শিশুর হাত-পায়ের দৈর্ঘ্য ও ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সরিষার তেল শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। পরিশেষ বলা যায় স্বাস্থ্যের জন্য বহুমাত্রিক টনিক হিসেবে কাজ করে সরিষার তেল।

6 Comments | Posted By

প্রাচীনকাল থেকেই খাবারে ঘি ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে আজকাল আমরা বাবা-মায়েরা এতটাই স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছি যে ফ্যাটের ভয়ে বাচ্চাদের এই ঘি খাওয়ানো এক প্রকার বন্ধই করে দিয়েছি। ‘আপনি কি জানেন বাজারে যত ফ্যাট পাওয়া যায় তার মধ্যে ঘি সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং স্বাস্থ্যকর। নির্দিষ্ট পরিমান ঘি একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে আবশ্যক। আর তাই আজ আমরা জানবো, শিশুর সুস্বাস্থ্য গঠনে ঘি কতখানি দরকারি এবং কি পরিমানে ঘি দেয়া উচিত।

যেসব কারনে ঘি বাচ্চার খাবারে দিবেন –

ঘি চর্বির জন্য একটি হেলদি উৎসএবং দৈহিক শক্তির জন্য উত্তম উৎস যা শৈশবের সময় দৈহিক বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য প্রয়োজন।

শৈশব থেকে সুসাস্থের অধিকারী হবার জন্য ঘি অন্যতম। এতে থাকা প্রাকৃতিক চর্বি এবং এনার্জি সঠিক গ্রোথ এবং ডেভেলপমেন্টে কাজ করে। সাধারনত জন্মের সময়ের ওজন ১ বছরে তিনগুন হয় এটাই স্বাভাবিক। কাজেই ৬ মাসের পর থেকে বুকের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবারে একটু ঘি শিশুর সঠিক ওজন ধরে রাখতে সাহায্য করে।
যেহেতু শৈশবের সময় গ্রোথ রেত হাই থাকে তাই বাচ্চার শরীর বেশী পরিমানে ক্যালরি চায়। ১ গ্রাম ঘিতে ৯ ক্যালরি থাকে। কাজেই খাবারে ঘির পরিমান যোগ করা যেমনি সহজ তেমনি শিশুকে একটিভ রাখার স্বাস্থ্যকর উপায়।

প্রথম এক বছর শিশুর মস্তিক গঠনের জন্য গুরুত্তপুরন সময়। সুস্থ পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাবার মস্তিক গঠনে সাহায্য করে। আর এই মস্তিস্কের ৬০% তৈরি হয় ফ্যাট থেকেই। Docosahexaenoic acid (DHA) এক ধরনের হেলদি ফ্যাট যা ব্রেন গ্রোথ এবং ডেভেলপমেন্টের জন্য দায়ি। এবং রিসার্চে পাওয়া গেছে যে বাড়িতে তৈরি করা ঘিতে প্রচুর পরিমানে DHA বিদ্যমান থাকে। তাই খাবারে ঘি যোগ করে শিশুর ব্রেন ডেভেলপমেন্ট প্রসেসকে বুস্ট করবে। শুধু তাই নয় এই ডিএইচএ ব্রেন ডেভেলপমেন্টের সাথে সাথে চোখের জুতি বাড়াতে সাহায্য করে।

এছাড়া ঘি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমূহের একটি দারুণ উৎস। অতএব আপনার শিশুর খাদ্যে ঘি যোগ করা মানে সংক্রমণ এবং রোগের সূত্রপাত রোধ করা।
ঘি ভিটামিনে থাকা দ্রবণীয় চর্বি শোষণ করতে সাহায্য করে। যদি খাবারে ঘি যোগ করা হয় তবে শিশু সহজে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণ করতে পারে। এই ভিটামিন পরিপূর্ণ শোষণের ফলে শিশুর হেলদি গ্রোথ ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি ইমিউন সিস্টেমকে বুস্ট করে ঘি।

আপনার সোনামণির কতটুকু ঘি খাওয়া দরকারি ?

বাচ্চার বয়স এবং ওজনের উপর নির্ভর করে দৈনন্দিন খাবারের সাথে ঘি দিতে হবে। অনেকে ৬ মাসের আগে থেকেই বাচ্চার খাবারে ঘি দিয়ে থাকেন। তবে এত অল্প বয়সে হজমে বাচ্চাদের একটু সমস্যা হয় তাই কমপক্ষে ৬ মাস বয়স থেকে দেয়া উত্তম। দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবার দেয়ার দিন থেকেই একটু একটু ঘি দেয়া শুরু করুন। কেননা এই সময় থেকে বাচ্চা বসা, হামাগুড়ি এবং হাঁটার চেষ্টা করে, কাজেই ক্যালোরি খরচ করার অবস্থায় আসে। তাই প্রথমে খিচুড়ির সাথে কয়েক ফোঁটা দিয়ে অভ্যস্ত করুন এরপর ধীরে ধীরে পরিমান বাড়াতে থাকুন।

আপনার সোনামণি যদি আন্ডার ওয়েট হয়ে থাকে তবে বেশী পরিমানে দিন। আর যদি ওভার ওয়েট হয়ে থাকে তবে ঘির পরিমাণটা কমিয়ে দিন।

সবই তো বলা হল কিন্তু পরিমাণটাই তো বলা হল না! বাড়িতে ৮ মাসের বাচ্চা থাকলে শুরু করুন ১চা চামচ ঘি দিয়ে। এরপর গ্রাজুয়ালি ৩ – ৪ চা চামচ করে ঘি দিন। পরিমান হুট করে বাড়িয়ে দিবেন না। ধীরে ধীরে বাড়ান এবং ওজনের দিকে খেয়াল রাখুন। কেননা ওভারওয়েট হয়ে গেলে ঘি’র পরিমান কমিয়ে দিতে হবে।

মাল্টিপাল হেলথ বেনিফিটের জন্য ঘি একটি দারুণ উৎস হতে পারে। বাড়ন্ত শিশুর খাদ্যের সাথে সীমিত পরিমাণ ঘি যোগ করা তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে অতিরিক্ত কোন কিছুই শুভ ফল বয়ে আনে না এই কথাটি ঘি’র বেলায় শতভাগ প্রযোজ্য।যদি শিশু ওজনে ভারসাম্য আনতে গিয়ে বেশী পরিমানে ঘি খাইয়ে ফেলেন তবে ঘি’র উপকারিতার থেকে অপকারিতাই বেশী হবে।

শেষে আরেকটি জিনিস মনে করিয়ে দেই, বাচ্চাদের অবশ্যই দেশি খাঁটি ঘি মানে গরুর দুধ থেকে যে ঘি তৈরি করা হয় তা খাওয়াবেন। বাজারে এখন ঘিয়ের সাবস্টিটিউট হিসেবে বনস্পতি ঘি পাওয়া যায়, যা দামের দিক থেকে গরুর ঘিয়ের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু এই বনস্পতি ঘি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা এটা টাইপ ২ ডায়বেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

4 Comments | Posted By
Tags: Categories: Latest News

মধু চিকিৎসা বিজ্ঞান একটি অন্যতম উপাদান। মুধুকে বলা হয় সর্বরোগের ওষুধ। স্বাস্থ্য সুরক্ষা, চিকিৎসা, সৌন্দর্য চর্চা- মধুর ব্যবহার সবখানে। আসুন জেনে নিই মধুর উপকারিতা সম্পর্কে-

modhu

ওজন কমায় মধু
প্রতিদিন সকালে মধু খেলে শরীরের বাড়তি ওজন কমে। বিশেষ করে যদি সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে খাওয়া হয়, তাহলে ওজন কমে কিছুদিনের মধ্যেই। এছাড়া প্রতিদিন নিয়মিত মধু খেলে পাকস্থলী পরিষ্কার থাকে, শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যায়।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়
ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু খেলে তা মস্তিষ্কের কাজ সঠিক ভাবে চালাতে খুব সাহায্য করে। এতে মস্তিষ্কের শক্তি তথা বুদ্ধি বাড়ে। যেকোনো কাজে মস্তিষ্ক আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়। যাদের মাথা খাটিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য মধু এনে দেয় নতুন উদ্যম ও সৃষ্টিশীলতা।

আয়ু বৃদ্ধি করে
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত যারা মধু ও সুষম খাবারে অভ্যস্ত, তারা তুলনামূলক বেশি কর্মক্ষম।

শক্তি বাড়াতে মধু
মধুতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি। এই প্রাকৃতিক চিনি শরীরে শক্তি যোগায় এবং শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যাদের মিষ্টির প্রতি ঝোক রয়েছে, তারা অন্য মিষ্টি খাবারের বদলে মধু খেতে পারেন।

হৃৎপিণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস করতে মধু
মধুর সাথে দারচিনি গুঁড়া মিশিয়ে খেলে তা রক্তনালীর বিভিন্ন সমস্যা দূর করে। রক্তনালী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এবং রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। মধু ও দারচিনির এই মিশ্রণ নিয়মিত খেলে হৃদরোগের ঝুকি অনেকাংশে কমে যায়।

ব্যথা নিরাময়ে
শরীরের জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা থাকলে তা থেকে দ্রুত মুক্তি মেলে মধু খাওয়ার মাধ্যমে। যে অবাঞ্ছিত রসের কারণে বাতের জন্ম, সেই রস অপসারাণে মধু বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফলে বাতের ব্যাথা সেরে যায়।

হজমে সাহায্য করে
মধু পেটের অম্লীয়ভাব কমিয়ে হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। হজমের সমস্যা অনেকাংশে দূর করার জন্য প্রতিবার ভারী খাবারের আগে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। ভালো ফলের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক চামচ মধু খেতে পারেন।

রক্ত পরিষ্কার করে
এক গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে এক বা দুই চামচ মধু এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খেতে পারেন। এটা রক্ত ও রক্তনালী পরিষ্কার করে।

হাঁপানি রোধে
আধা গ্রাম গুঁড়া গোলমরিচের সাথে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মিশিয়ে দিনে অন্তত তিন বার খেলে হাঁপানির সমস্যা অনেকটা দূর হয়।

গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তি
হজম সমস্যার সমাধানেও কাজ করে মধু। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন তিন বেলা দুই চামচ করে মধু বেশ উপকারী। এতে করে গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে মুক্তি মেলে সহজেই।

ত্বক নমনীয় করে
মধু হিউম্যাকটেন্ট যৌগে সমৃদ্ধ। এই যৌগটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার কাজ করে এবং ত্বকের উপরিভাগের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে। হিউম্যাকটেন্ট যৌগটি ত্বককে নমনীয় করতেও সাহায্য করে। ফলে ত্বক থাকে দীর্ঘদিন বার্ধক্যের ছাপ মুক্ত।

কাশি নিরাময়ে
দীর্ঘমেয়াদী হোক আর স্বল্পমেয়াদী হোক, যাদের খুসখুসে কাশির সমস্যা আছে, তারা প্রতিদিন এক চামচ আদার রসের সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন।

2 Comments | Posted By
Tags: Categories: Latest News

ছাতু আমাদের দেশের একটি প্রাচীন খাবার। তবে এখন এটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ প্রাচীনকালে মেহমানদারি করার জন্য এবং বিকেলে নাশতার জন্য মুড়ির মতো ছাতুও ছিল অত্যন্ত লোভনীয় ও জনপ্রিয় এক খাবার। এখনো চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে বাদাম-কালাইয়ের ছাতু পল্লীবধূরা চৈত্র মাসে তৈরি করে রাখে জ্যৈষ্ঠের পাকা আমের রসে খাবে বলে।Chatu

আম-ছাতু খাবারের মতো জনপ্রিয় খাবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামে বোধ হয় আর দ্বিতীয়টি নেই। সে এলাকায় চৈত্র মাসে নানা রকম চৈতালি ফসল ওঠে। এসব ফসলের মধ্যে মাষকলাই, চীনাবাদাম, যব, ভুট্টা, গম ইত্যাদি প্রধান। এসব ফসলের দানা আনুপাতিক হারে মিশিয়ে ভেজে জাঁতায় গুঁড়ো করা হয়। এর সাথে চাল ভাজাও দেয়া হয়। গুঁড়ো করা সেসব সামগ্রীকে বলা হয় ‘ছাতু’। তবে কেউ কেউ এসব দানা একসাথে না মিশিয়ে আলাদাভাবেও গুঁড়ো করে ছাতু তৈরি করেন। সে উপাদানের ওপর ভিত্তি করে সেসব ছাতুর নাম দেয়া হয়।

যেমন যব থেকে তৈরি করা ছাতুকে বলা হয় ‘যবের ছাতু’, চাল ভাজা থেকে তৈরি করা ছাতুকে বলে ‘চালের ছাতু’। মাষকলাই, চীনাবাদাম, যব, ভুট্টা, চাল ভাজা ইত্যাদি মিশিয়ে যে ছাতু করা হয় তাকে বলে ‘বাদাম-কালাই ছাতু’। গাজীপুর অঞ্চলে কাঁঠাল খুব হয়। তাই সে এলাকায় কাঁঠালের বিচি ভেজে তা গুঁড়ো করে বা ঢেঁকিতে কুটে তৈরি করা হয় ‘কাঁঠাল ছাতু’। ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিলাঞ্চলে শাপলার মতো ঢ্যাপ হয়। তার বিচি ভেজে খই করে তার যে ছাতু তৈরি করা হয় তাকে বলে ‘ঢ্যাপের ছাতু’। সেখানে ‘খইয়ের ছাতু’ও আছে।

ছাতুর সাথে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে গুড়, কলা, দুধ, আম ইত্যাদি সহযোগে খাওয়া হয়। কেউ কেউ মুড়ির সাথে গুড়-কলা দিয়ে মেখেও খায়। ছাতুর উপাদান যেহেতু চৈত্র মাসে ওঠে, তাই এ সময়ই সাধারণত ছাতু বেশি তৈরি করা হয়। ছাতুকে ঘিরে প্রাচীনকালে হিন্দু সমাজে বেশ কিছু সংস্কৃতি ছিল। চৈত্র মাসের সংক্রান্তিতে বোন ছাতু মেখে একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাইকে খাওয়াত। এ অনুষ্ঠানকে বলা হতো ‘ভাই ছাতু’। এখন এটি বিলুপ্তপ্রায়। বর্তমানে এ দেশের কিছু দোকানে ছাতু পাওয়া যাচ্ছে। কে জানে হয়তো এটি আবার প্রচলিত হবে আমাদের দেশে। অনেকের মতে এটি বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার।

7 Comments | Posted By